
ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) রাশিয়ার নিজনি নভগোরোদ অঞ্চল-এর নর্সি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি বাল্টিক সাগর উপকূলে অবস্থিত প্রিমোরস্ক বন্দর এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
আলেকজান্ডার দ্রোজাদেঙ্কো, লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর, জানান— প্রিমোরস্ক বন্দরের একটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দরটি রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তিনি আরও বলেন, ড্রোন হামলায় জ্বালানি ট্যাংকে শার্পনেলের আঘাতে ফাটল ধরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে।
তবে রুশ বাহিনীর দাবি, লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রথমে পাইপলাইনে ক্ষতির কথা বলা হলেও পরে তা অস্বীকার করে মস্কো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আজভ সাগর এলাকায় গমবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্মকর্তারা। শুক্রবার সংঘটিত ওই হামলায় একজন নিহত এবং দুজন নিখোঁজ হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন এখন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আঘাত হানছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে এবং মস্কোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এসব হামলা কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সফরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা-র সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।