
মোঃ মারুফ হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের শ্রীবরদীতে ট্রাংকের ভেতরে পাওয়া নেত্রকোনার গৃহবধূ ডলি আক্তার (৩৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি মোঃ নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী মোছাঃ রিক্তা মনি (২৬)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীবরদী পৌরসভার তাঁতিহাটি পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকায় একটি বড় ট্রাংকের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি হাত-পা বাঁধা ও তোশকে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ডলি আক্তার।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০১, তারিখ: ০২/০৪/২০২৬, ধারা: ৩০২/২০১/৩৪)। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই, জামালপুর জেলা।
তদন্তে নেমে পিবিআই আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় একটি নীল রঙের পিকআপ গাড়ি শনাক্ত করে, যা দিয়ে মরদেহ বহন করা হয়েছিল। অভিযান চালিয়ে গাড়িটি জব্দ করা হয় এবং চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে ৪ এপ্রিল ভোর রাতে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাতশালা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বাস থেকে নাহিদ ও রিক্তা মনিকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বসবাসকারী নাহিদ ও রিক্তা দম্পতির বাসায় গত ৩০ মার্চ রাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরিচয়ের সূত্র ধরে ডলি আক্তারকে বাসায় নিয়ে যায় নাহিদ। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে চিৎকার থামাতে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে স্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে তারা মরদেহ গোপনের পরিকল্পনা করে। একটি বড় ট্রাংক কিনে মরদেহ হাত-পা বেঁধে তোশক দিয়ে পেঁচিয়ে ভেতরে রাখা হয়। পরে পিকআপ ভাড়া করে মরদেহ শেরপুরে এনে ফেলে রেখে তারা গাজীপুরে ফিরে যায়।
পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, ঘটনার পরপরই একাধিক টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই অল্প সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হলে তারা স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।