
শাহনেওয়াজ হোসেন রাহাত, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নে প্রতিদিনই নিউমোনিয়া, জ্বর, হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩১ শয্যার হাসপাতালে গতকাল ১লা এপ্রিল বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, যদিও কাগজে ৫০ শয্যা থাকার কথা, তবে কার্যক্রম চালু রয়েছে ৩১ শয্যায়। ফলে দায়িত্বরত ডাক্তার ও নার্সদের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।
রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ গিয়াস উদ্দিন মানিক জানান, ২৫ মার্চ প্রথম দুই শিশু নিউমোনিয়ায় ভর্তি হয়। এরপর ২৬ মার্চ ৪ জন, ২৭ মার্চ ৩ জন, ২৮ মার্চ ১২ জন এবং প্রতিদিন ৫–৭ জনের মতো রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন আউটডোরে ৩–৪ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অতিরিক্ত রোগী রাখতে হাসপাতালের বারান্দা, সিঁড়ি পাশে ও চলাচলের গলিতে অতিরিক্ত সিট স্থাপন করা হয়েছে। ১লা এপ্রিল পর্যন্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১৯।
তিনি আরও জানান, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের ৫০ শয্যার ভবন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করা হলেও, ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ থেকে ৫০ শয্যা কার্যক্রম শুরু হলেও ডাক্তার ও নার্স পর্যাপ্ত নেই। হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফও অসম্পূর্ণ: ৫ জন সুইপার থাকা উচিত, বর্তমানে ১ জন; ৩ জন ওয়ার্ডবয় থাকা উচিত, বর্তমানে ১ জন; ২ জন আয়া থাকা উচিত, ১ জন; অফিস সহায়ক ৪ জনের স্থলে ৩ জন। এছাড়া গাড়ি থাকলেও চালক নেই। নাইটগার্ড, মালি, মেকানিকের পদও শূন্য।
ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হোসেন জানান, অফিস সহায়ক ৩ জন থাকলেও তাদের মধ্যে একজনই ইমারজেন্সিতে কাজ করছেন, আর একজন টিকেট কাটার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “প্রতিদিন নিউমোনিয়া, জ্বর ও হামসহ বিভিন্ন রোগে শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় স্বজনেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। জনবল সংকটের কারণে আমাদেরও সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”