
মো. আরফান আলী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ের জাবরহাট-বৈরচুনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মী (অফিস সহায়ক) রবি রায় দুই বছরের সাজা ভোগ করেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
জেলা প্রশাসনের (রাজস্ব) অধীন ওই কর্মী তিনটি পৃথক মামলায় দণ্ডিত হয়ে প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাকরি স্থগিত হওয়ার কথা থাকলেও তার ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত পৃথক মামলায় তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি কারাভোগ করছেন। তবুও প্রতি মাসে তার নামে বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারীর বেতন চালু থাকার সুযোগ নেই। যদি এমন হয়ে থাকে, তবে তা গুরুতর অনিয়ম এবং এর পেছনে প্রভাব বা দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
জাবরহাট-বৈরচুনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, “রবি দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এন এম ইশফাকুল কবীর বলেন, “বিষয়টি আমরা জানি। তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
মানবাধিকারকর্মী নূর আফতাবুল বলেন, “যারা নিয়মের কথা বলেন, তারাই যদি অনিয়ম করেন, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি তুলে ধরে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গোলাম ফেরদৌস বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”