
জিহাদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
হাসেন বানুর বয়স আশি পার হয়েছে। রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়া এই নারী এখন পালা করে একেক সন্তানের ঘরে এক মাস করে থাকেন। এই বয়সে নিয়মিত ওষুধ কেনা তার জন্য অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়ার খবরটি তাকে বেশ স্বস্তি দিয়েছে।
গতকাল কড়াইল বস্তিতে নিজের ছোট্ট ঝুপড়িতে বসে হাসেন বানু বলেন, তিনি শুনেছেন এই কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২,৫০০ টাকা পাওয়া যাবে। সেই টাকা দিয়ে নিয়মিত ওষুধ কেনার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। পাশাপাশি মাঝে মাঝে দুধ, ডিম ও ফল কেনা এবং নাতি-নাতনিদের জন্য কিছু খাবার কিনে দেওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে তার। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “এটা যদি আরও আগে আসত, তাহলে হয়তো আমি আরও একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম।”
হাসেন বানুর মতো কড়াইল বস্তির আরও অনেক নারী এই নতুন কর্মসূচি নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক দিন পর তারা এমন একটি কার্যক্রম দেখছেন যেখানে কোনো ধরনের টাকা দাবি করা হয়নি এবং কোনো রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবও খাটানো হয়নি। মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ফরম পূরণে সহায়তা করা হয়েছে।
ঢাকার সাততলা বস্তির ৩০ বছর বয়সী শিউলি আক্তারও এ কর্মসূচি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তিন সন্তানের এই একক মা সংসার চালাতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের বাসায় কাজ করেন। তিনি বলেন, “এই টাকা দিয়ে অন্তত বাচ্চাদের জন্য ভালো খাবার কিনতে পারব—এটা ভেবেই খুব ভালো লাগছে।”
আগামী ১০ মার্চ এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল কড়াইলের টিএনটি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ কাজ করছে। অনেকেই জানিয়েছেন, ফরমে কোনো ভুল থাকলে তাদের ডেকে নিয়ে সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে—যা আগে কখনো দেখা যায়নি।