
ফজলে রাব্বী
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে খাল-বিল, নদী-নালা ও শত শত একর ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালী একটি চক্র। ভেকু মেশিন ব্যবহার করে জমির উপরিভাগের ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত মাটি তুলে পুকুর খননের নামে তা ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এই মাটিখেকোদের। এতে একদিকে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক-রাস্তা। দিন দিন ছোট হয়ে আসছে মান্দা উপজেলার সবুজ মানচিত্র।
সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত বিঘা ফসলি জমিতে অবাধে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের বসতভিটা ও কৃষিজমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত ভেকু মেশিন দিয়ে জমির মাটি কেটে ট্রলি ও ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত অনুমোদনবিহীন ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক। এসব যানবাহনের অবাধ চলাচলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। মাটি বহনের সময় সড়কের ওপর মাটি পড়ে থাকায় বৃষ্টি হলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক জায়গায় সড়কের পিচও উঠে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ফসলি জমি ধ্বংসের জন্য শুধু মাটি ব্যবসায়ীরাই দায়ী নয়, জমির মালিকরাও দায়ী। নগদ টাকার লোভে অনেক জমির মালিক তাদের জমির মাটি কাটার অনুমতি দিচ্ছেন। এই সুযোগে মাটি ব্যবসায়ীরা প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমির উর্বর মাটি কিনে নিচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে এবং তাদের অবৈধভাবে মাটি কাটার সুযোগ করে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুকুর খননের কথা বলে কবরস্থান, মাদ্রাসা ও স্টেডিয়ামের নামে মাটি তুলে গোপনে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মান্দা সদর, তেঁতুলিয়া, কুশুম্বা, ভাঁরশো ও মৈনম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ১৩টি পয়েন্টে অবৈধ ভেকু ও ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা চলছে।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ মাটি ও বালু কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অনেক সময় দিনে অভিযান চালালে রাতে গোপনে মাটি কাটা হয়। ফসলি জমি রক্ষায় জমির মালিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।