
মস্ত মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে দলের দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ইফতার মাহফিল পণ্ড হয়ে যায়।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার তিনলাখপীর বাজারে আয়োজিত ইফতার-পূর্ব আলোচনা সভায় একটি বক্তব্যের জের ও ব্যানারে নাম না থাকা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের নির্দেশে ৫ নম্বর বিনাউটি ইউনিয়ন বিএনপি তিনলাখপীর বাজারে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুহাম্মদ ইলিয়াস। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এবং ব্যানারেও তার নাম ছিল না।
অনুষ্ঠান চলাকালে কসবা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক ভূঁইয়া দীপু তার বক্তব্যে নির্বাচনে বিএনপির বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের সমালোচনা করেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন সেখানে উপস্থিত হয়ে ব্যানারে তার নামসহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম না থাকার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো ইফতার মাহফিল পণ্ড হয়ে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন বলেন, ‘উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দিয়ে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্যানারে সিনিয়র নেতাদের নামও ছিল না। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
অন্যদিকে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক ভূঁইয়া দীপু বলেন, ‘ইফতার মাহফিলে বালুমহাল নিয়ে কথা বলার পর একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। পাল্টা হামলায় কয়েকজন আহত হন।’
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যানারে নাম না থাকা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’