চাঁদা দাবির অভিযোগে গুরুদাসপুরে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ সাগর, নাটোর
নাটোরের গুরুদাসপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগে রাকিবুর রহমান রাজা (৩৫) নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার দুপুরে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। মামলার বাদী ওবায়দুল ইসলাম তপু স্থানীয় মৎস্যজীবী দলের সাবেক সহসভাপতি। উভয়েই নাজিরপুর ইউনিয়নের তুলাধনা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মসজিদের নামে তুলাধনা হাট ইজারা নিয়ে টোল আদায় করতেন। চলতি বছর হাটের ইজারার জন্য দরপত্রে অংশ নেন ওবায়দুল ইসলাম তপু। গত বৃহস্পতিবার গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে দরপত্র বাক্স খোলা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তপু হাটের ইজারা লাভ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র খোলার সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেই উত্তেজিত হয়ে রাজা ইজারাদার তপুর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নাটোর জেলা যুবদলের নজরে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে জেলা যুবদল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাকিবুর রহমান রাজাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে শুক্রবার রাতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজা দাবি করেন, তিনি এক বছর আগের পাওনা টাকা চেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর কম টাকায় হাট ইজারা নেওয়া হলেও এ বছর বেশি টাকায় ইজারা নেওয়ায় তিনি বকেয়া টাকা প্রকাশ্যে দাবি করেন।
অন্যদিকে, মামলার বাদী ও বর্তমান ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপু বলেন, “রাজা আমার কাছে কোনো টাকা পায় না। হাটের ইজারা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় তিনি আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। নিজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই আমি মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।”













