
জিহাদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় নবনির্মিত ‘এন আলম’ গ্যাস পাম্পে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লিক হওয়া গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলাতলী থেকে বাসটার্মিনালগামী সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসির জানান, গ্যাস লিকের পর ট্যাংকি থেকে গ্যাস ছেড়ে দিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়—আগুন না ধরাতে ও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, অসতর্কভাবে জ্বালানো সিগারেটের আগুন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন রাত ১২টার দিকে জানান, ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করে। সহায়তায় ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
তিনি আরও জানান, গ্যাস স্টেশনটির ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ট্যাংকি থেকে মাঝে মাঝে আগুন জ্বলে উঠছে, ফলে এখনও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগের এক মেডিকেল কর্মকর্তা জানান, দগ্ধ ১০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ (চমেক) পাঠানো হয়েছে। ২ জন সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চমেকে পাঠানো অন্তত ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অন্তত ৩০টি পর্যটকবাহী জিপগাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জিপ মালিক শামসুদ্দিন। পাম্পের আশপাশে গাড়িগুলো পার্কিং করা ছিল।
এদিকে, ঘনবসতিপূর্ণ লোকালয় ও আবাসিক এলাকার ভেতর থেকে গ্যাস পাম্প সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।