
মিনহাজ উদ্দীন, আলীকদম উপজেলা প্রতিনিধি
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অজ্ঞাতনামা এক নবজাতক শিশুর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনা এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ভরিরমুখ পাড়া সংলগ্ন মাতামুহুরী নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা একটি ছোট চরে নবজাতকের নিথর দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। নদীপথে চলাচলকারী কয়েকজন ব্যক্তি প্রথমে দূর থেকে কিছু পড়ে থাকতে দেখে কাছে গিয়ে শিশুটিকে শনাক্ত করেন। পরে দ্রুত ঘটনাটি আলীকদম থানায় জানানো হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নবজাতকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এই ধরনের ঘটনা কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং সমাজের মানবিক ও সামাজিক সংকটের প্রতিফলন। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, দারিদ্র্য, সামাজিক লজ্জা, অবৈধ সম্পর্কের ভয়, পারিবারিক অস্বীকৃতি এবং সচেতনতার অভাব—এ ধরনের করুণ ঘটনার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
নবজাতক একটি নিষ্পাপ প্রাণ। তার বেঁচে থাকার অধিকার মৌলিক ও সাংবিধানিক। কিন্তু অসচেতনতা, ভয় বা সামাজিক চাপের কারণে অনেক সময় এমন অমানবিক পরিণতি ঘটে, যা সমাজের জন্য গভীর প্রশ্ন রেখে যায়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন—
গর্ভকালীন সেবা ও পরামর্শ নিশ্চিত করা,
পারিবারিক ও সামাজিক সহমর্মিতা বৃদ্ধি,
অবাঞ্ছিত গর্ভধারণে আইনসম্মত ও মানবিক সহায়তা প্রদান,
নারী ও কিশোরীদের জন্য পরামর্শকেন্দ্র সক্রিয় করা।
এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।