
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা
পাহাড়ের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে আধুনিক সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়েই নির্মাণ করা হচ্ছিল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নতুন ভবন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই সেই স্বপ্নে ধাক্কা—ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ফাটল। ফলে উদ্বোধনের আগেই ভবনটি এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের দেয়াল ও পলেস্তারা বিভিন্ন স্থানে ফেটে গেছে। কোথাও কোথাও সামান্য আঘাতেই পলেস্তারা খসে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাটল ঢাকতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পুটিন ব্যবহার করে রং করে দিচ্ছেন, যাতে বিষয়টি বাইরে থেকে বোঝা না যায়।
প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা ভবনটির কাজ করেছে মা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালু ও ইট ব্যবহার করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত সিমেন্ট দেওয়া হয়নি। তদারকি সংস্থা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এই অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “কাজের সময় ভালো মানের মালামাল ব্যবহার করতে আমরা দেখিনি। ভবন পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ফাটল ধরেছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—আমরা ভয়ে আছি।”
তবে স্থানীয়দের একজনের রাজনৈতিক পরিচয়সংক্রান্ত মন্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের (পিডি) মো. এনামুল হক বলেন, অভিযোগ তিনি মেনে নিতে পারছেন না, তবে নিয়মিত তদারকির অভাবে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে জানান তিনি।
জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাজাহান বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাহাড়ি ঢালু জমিতে নির্মিত ভবনের ভিত্তি বা পাইলিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, মাটির গুণাগুণ যথাযথভাবে পরীক্ষা না করে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করলে এমন কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মো. ফারুক আহমেদ বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। নির্মাণকাজে সামান্য ফাটল থাকতেই পারে। কোথাও সমস্যা পাওয়া গেলে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জুলহাস আহমেদ জানান, “আমরাও ভবনে ফাটল দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
জনগণের করের টাকায় নির্মিত ভবনে এমন ফাটল শুধু অর্থের অপচয় নয়, বরং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত ও ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।