
তৌহিদ ইসলাম, ঢাকা
তেজগাঁও কলেজে ‘রাজাকার পতন উৎসব’ শিরোনামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আয়োজক হিসেবে ‘তেজগাঁও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীগণ’-এর নাম ব্যবহার করা হলেও, এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, অনুষ্ঠানটির প্রকৃত আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে প্রকাশ করায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ক্ষেত্রে কলেজ প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তেজগাঁও কলেজ শাখার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ হোসেন বলেন, “ক্যাম্পাস রাজনীতি স্বচ্ছ ও সংগঠনের নিজস্ব পরিচয়ে হওয়া উচিত। কোনো পক্ষের কার্যক্রমকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে প্রকাশ করা বিভ্রান্তিকর এবং নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।”
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করে বলেন, “ছাত্র ইউনিয়ন পক্ষপাতিত্ব ও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নতুন রাজনীতি শুরু করেছে। প্রথমে ইতিবাচক মনে হলেও এখন তা বিতর্কে রূপ নিয়েছে। ছাত্রসমাজ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।”
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নিয়াজ মিয়া বলেন, “নির্বাচন শেষ হতেই উত্তেজনাপূর্ণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আয়োজনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করা হলেও প্রশাসনের অনুমতি ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।”
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলেজের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর শামীমা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আয়োজকদের সতর্ক করেন। তিনি উচ্চ শব্দে গান বাজানো বন্ধ রাখতে এবং ক্লাসের পরিবেশ ব্যাহত না করার নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানের ব্যানারে ‘রাজাকার’ হিসেবে চিহ্নিত কিছু ছবি ও একপাক্ষিক বক্তব্য প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উপস্থাপনা ক্যাম্পাসে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে। ঘটনাটি তেজগাঁও কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।