ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: যশোরে ২৪ লাখ ভোটারের জন্য প্রস্তুত ৮২৪ কেন্দ্র, ৭১টি ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন, ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন যশোরে উৎসবমুখর ও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেলার ৮টি উপজেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ভোটের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। এবার যশোরের মোট ৮২৪টি কেন্দ্রে ২৪,৭১,৯০৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
যশোর জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৪,৬৭৯টি। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
ভোটারের সংখ্যানুযায়ী বিবরণ:
পুলিশের বিশেষ শাখা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবারের নির্বাচনে ৩৬.৬৫ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বাদশ নির্বাচনে এই সংখ্যা ২৭৫ ছিল, এবার বেড়ে ৩০২টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৭১টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আসন ভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের চিত্র:
-
যশোর-৫ (মণিরামপুর): ১২৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৯৩টি ঝুঁকিপূর্ণ
-
যশোর-১ (শার্শা): ১০২ কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ
-
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা): ১৭৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ
-
যশোর-৩ (সদর): ১৯০ কেন্দ্রের মধ্যে ৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ
-
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): ১৪৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ
-
যশোর-৬ (কেশবপুর): ৮১ কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানান, সীমান্ত এলাকা ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অনলাইন সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এছাড়া এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবি মোতায়েন থাকবে। প্রতি দুটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য একটি করে মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
মাঠে রাজনৈতিক দলগুলোও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সচেষ্ট রয়েছে। জেলা জামায়াত জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রে কোনো দুর্বৃত্তায়ন রোধে তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। অন্যদিকে জেলা বিএনপির নেতারা বলছেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কোনো নাশকতার চেষ্টা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে।
সব মিলিয়ে, আগামীকালকের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে যশোরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের রায় প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।