
মোঃ জাহিদুল ইসলাম
ক্রাইম রিপোর্টার
আমার সকাল ২৪
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাফা আ সাদিকের বিরুদ্ধে ঘুষ না দেওয়ায় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আমতলী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সি আর মামলা নং ২৪৪/২৫-এর তদন্তভার উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাফা আ সাদিককে প্রদান করা হয়। বিবাদীদের দাবি—তদন্ত প্রতিবেদন তাদের পক্ষে দেওয়ার শর্তে ওই কর্মকর্তা ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে সাবেক সেনা সদস্য রেজাউল করিম, কাদের সিকদার ও মাহমুদা আক্তার উল্লেখ করেন, আমতলী উপজেলার ৫৫ নং ছকনাটা মৌজার এস.এ ১৫০ নং খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন ফজল আলী (পিতা– আইউব আলী)। তিনি ১৯৭৬ সালের ৮ জুন ৩৫৮ নং দলিলের মাধ্যমে জমি কাশেম আলীর কাছে হস্তান্তর করেন।
পরবর্তীতে কাশেম আলী ২০১৬ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯০৮ নং দলিল এবং ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ১০৫৮ নং দলিলের মাধ্যমে মোট ২ দশমিক ৩৩ একর জমি বিবাদীদের নিকট বিক্রি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উক্ত জমিতে রোপিত গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় মোঃ শাহ আলম জমাদার আমতলী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সাফা আ সাদিককে।
বিবাদীদের দাবি, ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় সাফা আ সাদিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই দ্রুত আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাফা আ সাদিক সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, “মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তোশিলদারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।