
জামাল উদ্দিন
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি–কমলনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী হাওয়া এখন বেশ উৎসবমুখর। একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে সক্রিয় বিএনপি, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি জেএসডি, গণ-অধিকার পরিষদ ও বাসদের প্রার্থীরাও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—
বিএনপি: সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান (ধানের শীষ)
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ (হাতপাখা)
জেএসডি: কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তানিয়া রব (তারা)
জামায়াতে ইসলামী: এ আর হাফিজ উল্লাহ (দাঁড়িপাল্লা)
গণ অধিকার পরিষদ: রিদওয়ান উল্যা খাঁন
বাসদ: মিলন মণ্ডল
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩৪ জন এবং এখানে ১২১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
রামগতি–কমলনগরকে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী আসন হিসেবে ধরা হয়। এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে থেকেই তিনি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিজান বলেন,
“রামগতি–কমলনগর আমার জন্মভূমি। এখানকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। জনগণের সেই ভালোবাসা নিয়েই এবারও ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।”
এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামীর আলাদা প্রার্থী থাকায় ইসলামী ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত বিএনপির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন,
“আমরা আলোচনার মাধ্যমে সব বিষয়ে সমাধান চাই। ইনশাআল্লাহ, ইসলামী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে পারবে।”
তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ঐক্যের ঘোষণা না আসায় ভোট বিভাজনের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
জেএসডির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তানিয়া রব তারা মার্কা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে দলটির সংগঠন ও কিছু প্রভাবশালী নেতার অবস্থান নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের মধ্যে কার্যকর ঐক্য না হলে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিএনপির জয় সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। তবে ভোট বিভাজন ও শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণই নির্ধারণ করবে এই আসনের চূড়ান্ত ফলাফল।