
ফজলে রাব্বি
উপজেলা প্রতিনিধি, মান্দা (নওগাঁ)
নওগাঁর পাশের কৃষিপ্রধান উপজেলা মান্দা এখন গাজর চাষে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার ১২টি গ্রামে প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে ২০–২৫ হাজার মেট্রিক টন গাজর উৎপাদিত হয়েছে। সবুজ মাঠজুড়ে কমলা-হলুদের দিগন্ত বিস্তৃত দৃশ্য কৃষকের মুখে এনেছে হাসি।
উৎপাদিত গাজর নওগাঁ জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। শুধু দেশেই নয়—মান্দার কুশুম্বা, বিলকরিল্যা, হাজীগবিন্দপুর, বড়পই, গাইহানা, পাকুড়িয়া ও বাদলঘাটার গাজর বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হেক্টরপ্রতি ফলন ৯ থেকে ১১ টন—মোট উৎপাদন প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, বেলে দোঁআশ মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া এখানে গাজর চাষের জন্য আদর্শ। তবে এবার কুয়াশা কম থাকায় উৎপাদন কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে।
তাদের ভাষায়, “কুয়াশা গাজরের জন্য উপকারী। কুয়াশা কম থাকায় ফলন কিছুটা কমেছে।”
গত বছর উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা তেমন লাভবান হতে পারেননি। বিদেশি বীজের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়েন।
এ বছর বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকরা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন। তবে তাদের অভিযোগ—
“বিদেশি বীজ স্থানীয়ভাবে ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয়; সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা উচিত।”
কৃষি কর্মকর্তা জানান—
দেশে দেশীয় গাজর বীজ নেই
জাপান থেকে আমদানি করা “অরেঞ্জ কিং”সহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের বীজ ব্যবহৃত হয়
মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে
ছত্রাক আক্রমণ প্রতিরোধে সতর্ক করা হয়েছে
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে—
বীজ বোনা থেকে ৩ মাসের মধ্যে গাজর সংগ্রহযোগ্য
১০০ দিনের আগে তুললে মান কমে
১০০–১২৫ দিনের মধ্যে তোলা সবচেয়ে উপযোগী
তারা আরও বলেন, “যত্ন নিয়ে চাষ করলে মান্দার কৃষকদের মতোই লাভবান হওয়া সম্ভব।”