
মোঃ মেহেদী হাসান, ফরিদপুর প্রতিনিধি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানো অনেক আগে থেকেই নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছেন না ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ১২ নং সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা— এমন অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জনই শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ান বলে জানা গেছে। এদের কয়েকজন আবার মধ্যাহ্ন বিরতির সময় শিক্ষার্থীদের খাবার ও খেলাধুলার সুযোগ না দিয়ে ওই সময়েই প্রাইভেট নেন। কেউ কেউ ক্লাস না থাকার সময়েও শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ান। এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলও গুনতে হচ্ছে সরকারকে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার কথা থাকলেও সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই টাকা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা মিলে ব্যয় করেন এবং এর একটি অংশ দিয়ে দুজন প্যারা শিক্ষক রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ে কর্মরত আটজন শিক্ষকের মধ্যে দুটি শিক্ষক দম্পতি রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তার নিজে প্রাইভেট না পড়ালেও অন্যদের নিষেধ করেন না বলে অভিযোগ। শিক্ষক সাহেবুল ইসলাম ও তাইফুন্নাহার প্রতিদিন সকালে ও ক্লাসের ফাঁকে প্রাইভেট পড়ান। কাজী খালিদ হোসেন ও গুলশানারা আক্তার সকালে ও ছুটির পর প্রাইভেট নেন। সিনিয়র শিক্ষকদের দেখাদেখি রাবেয়া রুমা ও জাহিদ খানও প্রাইভেট শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একমাত্র লাবলী খানম প্রাইভেট পড়ান না বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষায় ফেল করানো, ক্লাস থেকে বের করে দেওয়া ইত্যাদি হুমকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হয়। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষকদের একটি অংশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। দুই শিক্ষক দম্পতির প্রভাবের কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
একজন অভিভাবক বলেন, “বাংলাদেশে এমন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই যেখানে মাসিক বেতন দিয়ে পড়তে হয়। জোর করে বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়ানো হচ্ছে। প্রতিবাদ করার সাহস পাই না।”
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক কাজী খালিদ হোসেন বলেন, “সবাই প্রাইভেট পড়ায়, তবে কেউ স্কুল টাইমে পড়ে না। একজন প্যারা শিক্ষক আছেন, কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সামান্য টাকা নিয়ে তাকে বেতন দেওয়া হয়। আরেকজন আছেন, তাকে কোনো বেতন দেওয়া হয় না।”
এই বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক নাজমা আক্তারকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তাশেম উদ্দিন বলেন, “শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর কোনো নিয়ম নেই এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসিক বেতন নেওয়ারও বৈধতা নেই। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, “শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট পড়ানোর নিয়ম নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন জানান, “এই বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”