
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও মার্কিন-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। দুই দিনের তীব্র সংঘাতের পর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে সিরীয় সরকারপন্থি বাহিনী এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। রাক্কা প্রদেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চল সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এ ঘটনার পর আলেপ্পোসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকার এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। একইসঙ্গে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সহকারী মন্ত্রীর নাম প্রস্তাব করার আহ্বান জানায় সিরীয় সেনাবাহিনী।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা নিশ্চিত করে এসডিএফ জানায়, সরকারি বাহিনী আক্রমণ না করা পর্যন্ত তারা কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেবে না এবং রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি আগ্রহী। বিবৃতিতে তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোলা রেখেছে বলে জানায়।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই সরকারপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে এসডিএফ। তাদের দাবি, হাসাকাহ শহরের দক্ষিণে তাল বারুদ এলাকা ও রাক্কার নিকটবর্তী অঞ্চলে ‘ভারী অস্ত্র’ ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করছে এবং তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, “কুর্দিরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, নিজেদের স্বার্থেই লড়াই করছে।”
এর আগে গত রোববার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এসডিএফের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণ একীভূতকরণ চুক্তির ঘোষণা দেন। এসডিএফও এতে সম্মতি জানালেও সোমবার আবারও নতুন সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের মধ্যেই হাসাকাহ প্রদেশের শাদ্দাদি কারাগার থেকে প্রায় ২০০ আইএস বন্দি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সরকার এসডিএফকে দায়ী করে এটিকে ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ বলে আখ্যা দেয়। তবে এসডিএফ দাবি করে উপজাতীয় যোদ্ধাদের হামলার ফলে সেনাবাহিনী কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারায়, যার ফলে বন্দিরা পালিয়ে যায়।
বন্দিদের খোঁজে অভিযান শুরু করে সরকার। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পলায়নকারী ২০০ জনের মধ্যে ১২৩ জনকে পুনরায় আটক করা হয়েছে।