
বিশেষ প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম): মোহাম্মদ ফোরকান
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ চরতী ব্রিজ সংলগ্ন বাজারে প্রকাশ্যে মাছে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও ক্ষতিকর রং মেশানোর অভিযোগ উঠেছে এক অসাধু বিক্রেতার বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গেলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দৃশ্যমান তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এভাবে জনস্বাস্থ্য নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) মো. আলমগীর তালুকদার নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার আইডিতে ঘটনার ভিডিওটি শেয়ার করেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি ক্যাপশনে লেখেন, “দক্ষিণ চরতী ব্রিজের পাশের বাজারে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে মাছ বিক্রি করা হচ্ছে। সচেতন এলাকাবাসী, সর্দার ও বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিষয়টি তদন্ত করে বিক্রেতার শাস্তির আওতায় আনার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
ভিডিওটির মন্তব্য ঘরে সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মোহাম্মদ কাইছার নামের একজন মন্তব্যে অভিযুক্তের পরিচয় তুলে ধরে দাবি করেন, তার নাম আব্দুল হালেক। তার মূল বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নে। বর্তমানে তিনি সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের ফুলতলা বাজারে ভাড়া বাসায় থাকেন এবং নিয়মিত জুটপুকুরিয়া বাজারে মাছ বিক্রি করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জনস্বার্থে তাকে দেখামাত্র পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান ওই মন্তব্যকারী।
ওয়াহিদ চৌধুরী নামের আরেকজন লিখেছেন, “প্রকাশ্যে কেমিক্যাল মিশাচ্ছে, আবার হুমকি দিচ্ছে— মানুষ মারা যাক। আগামী বাজার থেকে তার মাছ বিক্রি বন্ধ করতে হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়মিত প্রশাসনের নজরদারি বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নেই। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বা মৎস্য কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় এমন কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। সামান্য লাভের আশায় মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত আব্দুল হালেককে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হালেকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ ক্রেতাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।