
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শীতকালে অনেকেই বার বার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করেন। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কনকনে ঠান্ডায় বাথরুমে যেতে অনীহা থাকায় অনেকেই পানি কমিয়ে দেন, যা উল্টো শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাপমাত্রা কমে গেলে ত্বকের ক্যাপিলারি সংকুচিত হয় এবং শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে রক্ত কেন্দ্রীভূত হয় অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর দিকে, বিশেষ করে কিডনিতে। এতে কিডনিতে রক্ত প্রবাহ বাড়ে এবং প্রস্রাব তৈরির মাত্রাও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি শীতে ঘাম কম হওয়ায় শরীরের অতিরিক্ত তরল প্রস্রাবের মাধ্যমেই বের হয়ে যায়। সাধারণভাবে এ পরিবর্তনকে ক্ষতিহীন ও সাময়িক ধরা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শুধু ঠান্ডার কারণে প্রস্রাবের চাপ বাড়ছে কিনা তা লক্ষ করা জরুরি। প্রস্রাবে জ্বালা–ব্যথা, তীব্র গন্ধ, রং পরিবর্তন, জ্বর, কোমর ব্যথা, রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব বা পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাব শুরু হতে দেরি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। এসব লক্ষণ ইউরিনারি ইনফেকশন (ইউটিআই), প্রোস্টেট সমস্যা বা ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত হতে পারে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, শীতে পানি কমিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এতে শরীরে পানিশূন্যতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তারা শীতে পর্যাপ্ত পানি পান, অতিরিক্ত ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং কফি ও চায়ের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, শীতে প্রস্রাবের চাপ বাড়া স্বাভাবিক ঘটনা হলেও অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।