
জিহাদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় চুরির অভিযোগে দুই যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে লৌহজং থানায় নিহত সানারুলের মা রোকসানা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলায় মোট ২৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোররাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৬টার মধ্যে লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয় লোকজন সাগর (২৫) ও সানারুল (২০) নামে দুই যুবককে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর হামলা চালালে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে লৌহজং থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জেলা পুলিশের একাধিক টিম যৌথভাবে অভিযান শুরু করে এবং দিনভর অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফেরদৌস মাতবর (৩৬), মো. শামীম আহম্মেদ (২৬), শাওন (২৮), নাইম (২০) ও আ. আউয়াল শেখ (২৬)। তাদের সবার বাড়ি লৌহজং উপজেলায়।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক তদন্তে গণপিটুনির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে গোয়ালি-মাদ্রা ও আশপাশের এলাকায় এসব অভিযোগ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও স্থায়ী সমাধান আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, মাদকের নেশা পূরণে অর্থ জোগাড় করতেই কিছু যুবক চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
তবে সচেতন মহলের মতে, অপরাধ দমনে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সমাধান নয়। গণপিটুনির মতো ঘটনা সমাজে ভয়াবহ নজির সৃষ্টি করে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক সহিংসতা রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আরও বাড়তে পারে।