লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত অন্তত ২৪, যুদ্ধবিরতি নিয়েও অনিশ্চয়তা
যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও লেবানন-এ ইসরাইলি বোমাবর্ষণ থামেনি। শনিবার রাতভর ও রোববার সকালে একাধিক হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলার মারুব শহরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণের শহর কানায় আরেক হামলায় পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া আল-বাজুরিয়েহ, কালিলা, বাফলিয়েহ এবং ক্লাউইয়া শহরেও ইসরাইলি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের একটি সূত্র জানিয়েছে, তেফাহতা শহরে শনিবার রাতভর হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ফলে সর্বশেষ হিসাবে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৪ জনে।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাদের ওপর ড্রোন হামলার দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় ইসরাইলি বসতি ইর’ওনে সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিজেদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে।
পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে চুক্তিতে লেবাননের বিষয়টি থাকলেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
এরপর ৮ এপ্রিল ভোর থেকে রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইল দাবি করে, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ১০০-রও বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় তিন শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং সহস্রাধিক আহত হন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ২১ ঘণ্টার শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনার ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে লেবাননে ইসরাইলি হামলা আরও জোরদার হতে পারে।