
সাইফুল ইসলাম রাজু, স্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভিজিএফ কার্ডধারীরা অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম চাল দেওয়া হচ্ছে, ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার না করে আনুমানিকভাবে বালতিতে মেপে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ভিজিএফ কার্ডধারীর জন্য ১০ কেজি চাল বিতরণ করার কথা। তবে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো ও কাঞ্চন পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিতরণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের হাতে পাচ্ছেন মাত্র ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি চাল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাল মাপার জন্য ডিজিটাল স্কেল ব্যবহার করার নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্র তা মানছে না। অনেক জায়গায় দায়সারাভাবে বালতিতে করে আনুমানিকভাবে চাল তুলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা কম পরিমাণ চাল পাচ্ছেন।
ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার ১০ কেজি চাল দিলেও হাতে কম দেওয়া হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার ভয়ের কারণে তারা কিছু বলতে পারছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, বিতরণকালে বেঁচে যাওয়া অতিরিক্ত চালের কিছু অংশ খোলা বাজারে বিক্রি করার ঘটনাও ঘটছে। তবে অনেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না।
রূপগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরিফ মোহাম্মদ বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, “আমরা গুদাম থেকে নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেছি। যদি কেউ কম দেয়, আমাদের কিছু করার নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির চাল বিতরণে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও তদন্ত জরুরি। তা না হলে সরকারের দরিদ্র সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাবে না।