
মেয়েদের সাজগোজের জনপ্রিয় প্রসাধন সামগ্রীর মধ্যে লিপস্টিক অন্যতম। এর মধ্যে ম্যাট লিপস্টিক বর্তমানে বিশেষ জনপ্রিয়। তবে সৌন্দর্য সচেতনদের অনেকেই সঠিক নিয়ম না মেনে ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করেন, যার ফলে ঠোঁটে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাট লিপস্টিকের ফর্মুলায় তেল ও ময়েশ্চারের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে লিপস্টিক দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে টিকে থাকলেও ঠোঁট দ্রুত শুকিয়ে যায়। নিয়মিত যত্ন না নিলে ঠোঁট ফেটে যাওয়া, খোসা ওঠা এবং কালচে হয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ত্বক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে লিপ কেয়ার রুটিন অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, সপ্তাহে কমপক্ষে দুই দিন হালকা লিপ স্ক্রাব ব্যবহার করা উচিত। বাড়িতে চিনি ও মধু মিশিয়ে তৈরি স্ক্রাবও ভালো কাজ করে, যা ঠোঁটের মৃত চামড়া দূর করে এবং নরম রাখে।
স্ক্রাব করার পর লিপ বাম ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহারের আগেও লিপ বাম লাগানো উচিত। তবে বাম লাগানোর পর সঙ্গে সঙ্গে লিপস্টিক না দিয়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে বাড়তি বাম মুছে নিয়ে লিপস্টিক দিলে ঠোঁট আর্দ্র থাকে, কিন্তু ম্যাট ফিনিশ নষ্ট হয় না।
এ ছাড়া ঠোঁটের সুস্থতার জন্য ভেতর থেকেও যত্ন প্রয়োজন। এজন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চা-কফি গ্রহণ ও ধূমপান ঠোঁট শুষ্ক করে ফেলতে পারে, তাই এসব অভ্যাস কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারে ড্রাই ম্যাট লিপস্টিকের বদলে হাইড্রেটিং ম্যাট বা ক্রিমি ম্যাট ব্যবহার করলে ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়ার ঝুঁকি কমে।
সমগ্র বিবেচনায়, সৌন্দর্য বজায় রাখতে শুধু প্রসাধন ব্যবহারের ওপর জোর না দিয়ে নিয়মিত লিপ কেয়ার রুটিন অনুসরণ করাই ঠোঁট সুস্থ রাখার মূল উপায় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।