মেলান্দহে বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ, প্রধান অতিথি এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল
মেহেদী হাসান হাবিব, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
জামালপুরের মেলান্দহে যথাযোগ্য মর্যাদা, আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩-কে বরণ করা হয়েছে। ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’—এই উদাত্ত আহ্বানে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নানা আয়োজনে পুরো মেলান্দহ মেতে ওঠে বাঙালির প্রাণের উৎসবে।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় ঐতিহ্যের ছোঁয়া
মঙ্গলবার সকালে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে মেলান্দহ বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক, রং-বেরঙের ফেস্টুন ও লোকজ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলা নববর্ষ আমাদের আত্মপরিচয়ের উৎসব। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালিকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি, তার মূলে রয়েছে আমাদের সুদৃঢ় সাংস্কৃতিক চেতনা। নতুন বছরে সব সংকীর্ণতা পরিহার করে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ আকর্ষণ: লাঠি খেলা
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। ঢাক-ঢোলের তালে তালে লাঠিয়ালদের বীরত্বগাথা কসরত উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়। এছাড়া স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও লোকসংগীত পরিবেশিত হয়।
সমাপনী আয়োজন
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও জিন্নাতুল আরা বলেন, বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই উপজেলা প্রশাসন প্রতি বছর এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের পান্তা-ইলিশ ও দেশীয় পিঠা-পুলির মাধ্যমে আপ্যায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে গ্রামবাংলার আবহে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে।