
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা পুলিশের তৎপরতায় মালয়েশিয়ায় পাচার হওয়া দুই কিশোরকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একইসঙ্গে মানবপাচার চক্রের মূলহোতাসহ একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোর হলো চান্দগাঁও থানাধীন মৌলভীপুকুরপাড় এলাকার সোহান (১৭) ও ইসমাইল ওরফে সাগর (১৬)। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি গ্যারেজে কাজ করত এবং পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হঠাৎ করে নিখোঁজ হয় দুই কিশোর। তাদের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, তারা মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচার হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন সরওয়ার অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে দুই আসামি—আব্দুল কাদের মামুন ও ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেন। পরে ধারাবাহিক অভিযানে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ এলাকা থেকে মিলন এবং কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মোস্তফা আটক হন।
গ্রেপ্তার মোস্তফা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে জানায়, সে মালয়েশিয়াভিত্তিক পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের তৎপরতা ও কৌশলগত চাপের মুখে পাচারকারীরা অবশেষে দুই কিশোরকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ১৭ মার্চ ভোরে টেকনাফ থানার বড়ইতলী পাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাব মিয়া, শাহ আলম ও মোহাম্মদ হোসেন নামের তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে সোহান ও ইসমাইলকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।