
নিউজ ডেস্ক, আমার সকাল ২৪।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতা হত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে শুনানি শুরু হবে। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন– বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আজ আসামিপক্ষের শুনানিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন না করার পাশাপাশি অব্যাহতির আবেদন বিবেচনা করা হবে। সকাল ১০টার পর কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে সালমান ও আনিসুল হককে আদালতে আনা হয়।
এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ শুনানি শেষ করে। ওই সময় ট্রাইব্যুনালে তাদের একটি বিতর্কিত ফোনালাপ বাজিয়ে শোনানো হয়েছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, কারফিউ চলাকালীন আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ এই উসকানি হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনার কাজ করেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে বলেন, শোনানো ফোনালাপটি তার মক্কেলদের নয়। তিনি বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ড পরীক্ষা করার আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল নথিভুক্ত রাখলেও খারিজ করে। মুনসুরুল হক তার মক্কেলদের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য ১০ ডিসেম্বর একটি আবেদন দাখিল করেছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেশ করেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ওই ফোনালাপের পর ঢাকা ও সারা দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। আজ আসামিপক্ষ তাদের আইনি ব্যাখ্যা ও অব্যাহতির আবেদন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করবেন।