
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর মাধবদীতে আলোচিত কিশোরী আমেনা আক্তার (১৫) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, আমেনার সৎ বাবা আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালেও ধর্ষণচেষ্টা ও গৃহবধূ হত্যার একটি ভয়াবহ মামলা রয়েছে।
আমেনার বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন নুরা ও তার আরও পাঁচ সহযোগী জোরপূর্বক আমেনাকে তার বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাতেই তাকে হত্যা করা হয়। পরিবারের দাবি, পূর্বের হত্যা মামলার আসামি আশরাফ আলীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকেই আশরাফ আলীর আচরণ সন্দেহজনক। অতীতে নারী নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগে জড়িত থাকার কারণে এই মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা গভীরভাবে তদন্ত করা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের মৌয়াকুড়া গ্রামে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় স্বামীর অনুপস্থিতিতে ধর্ষণচেষ্টা প্রতিহত করতে গিয়ে নিহত হন গৃহবধূ হাজেরা খাতুন (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আশরাফ আলী সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে হাজেরার ওপর যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়। বাধা পেয়ে তিনি তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং একপর্যায়ে সে অপরাধ স্বীকার করে বলে জানা যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাজেরাকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। পরে পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করে হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আশরাফ আলীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও চুরিসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। এলাকায় তিনি চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আমেনা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত নুরা ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করছে, পূর্বের হত্যাকাণ্ডের আসামি আশরাফ আলীর সঙ্গে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে, আমেনাকে তুলে নেওয়া এবং হত্যার পেছনে কোনো পরিকল্পিত চক্রান্ত ছিল কি না—সেটি তদন্তের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকারকর্মীরাও অবিলম্বে আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ এবং পূর্ববর্তী মামলার তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।