
দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধরত অবস্থায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইসরাইল-এর সামরিক বাহিনী। বর্তমানে ইরান ও লেবানন সীমান্তে সক্রিয় সংঘাতে জড়িত থাকায় বাহিনীতে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় সেনাবাহিনীতে জনবলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ‘নিজের ভেতরেই ধসে পড়তে পারে’।
স্থানীয় সময় বুধবার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরাইল এ তথ্য জানিয়েছে।
সেনাপ্রধান বলেন, ক্রমবর্ধমান অপারেশনাল চাপ ও জনবলের ঘাটতির কারণে সেনাবাহিনী টেকসইভাবে কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি মন্ত্রীদের সামনে ১০টি সতর্ক সংকেত তুলে ধরে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে নতুন সামরিক আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।
তার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব আইন দ্রুত কার্যকর না হলে আইডিএফ নিয়মিত সামরিক অভিযান পরিচালনায় সক্ষমতা হারাতে পারে এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে পারে।
এর আগেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন সেনাপ্রধান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীতে প্রায় ১২ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ২০২৪ সালের জুনে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত রায়ে জানায়, হারেদি ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এরপর থেকে অতিরক্ষণশীল ইহুদি গোষ্ঠীগুলো এ অব্যাহতি বজায় রাখার দাবিতে সক্রিয় রয়েছে।
বর্তমানে ইসরাইলে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার অতিরক্ষণশীল ইহুদি যুবক সামরিক সেবার জন্য যোগ্য হলেও, তাদের এখনো বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।