
মস্ত মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
গত এক মাসে ১৯ বার সিগন্যালিং ক্যাবল চুরি হয়েছে আজমপুর স্টেশন এরিয়া থেকে। এটা এক কথায় অবিশ্বাস্য হলেও ঘটেছে এটাই। ঘনঘন ক্যাবল চুরির কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায় ভয়ংকর সব তথ্য।
মাদক কারবারি সিন্ডিকেটের দ্বারা বারবার এই অপকর্ম গুলো হচ্ছে বলে জানা যায়। সিগন্যালিং এর তার কাটা হলে রেলের কম্পিউটারাইজড সিগনাল সিস্টেম অকেজো হয়ে যায়। তখন ট্রেন পরিচালনার জন্য ম্যানুয়েল পাইলটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ট্রেন চলাচল চালু রাখতে হয়। অর্থাৎ ট্রেন সিগন্যালের আগে এসে দাঁড়িয়ে যাবে তখন স্টেশন মাস্টার সাহেবের কাছ থেকে পেপার সিগন্যালিং টোকেন নিয়ে পিম্যান ট্রেন চালকের কাছে দেন,তারপর ট্রেন চালক সেটায় লিখা নির্দেশ অনুযায়ী ট্রেন নিয়ে এগিয়ে যান।
প্রশ্ন হলো এর সাথে মাদক কারবারিদের সম্পর্ক কোথায়? সম্পর্ক হলো- সিগনাল না পেয়ে ট্রেন যখন স্টেশনের আগেই থেমে যায় তখন মাদক কারবারিরা ট্রেনের মধ্যে মাদক তোলেন আজমপুর আউটার থেকে। তারপর এই মাদক নিরাপদে পৌঁছে যায় ঢাকা,চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে যে সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস সহ অন্যান্য ট্রেন যখন আজমপুর স্টেশন এলাকা অতিক্রম করে তখন ট্রেনের পেছনে থাকা লাগেজ ভ্যানের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং এতে মাদক দ্রব্য তোলা হয়। এমন দৃশ্য হরহামেশাই দেখা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তাহলে সিগনালের তার চুরির নেপথ্য গল্প হলো এই। রেল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচিত কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এই মাদক সিন্ডিকেট দমন করা।এগিয়ে আসা উচিত স্থানীয় ব্যক্তিদের। নাহয় আজমপুর রেল সেবা বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে।