
মস্ত মিয়া
বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ। সভায় তিনি জেলার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পুলিশ সুপার জানান, তালিকা প্রণয়নের সময় বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের একটি অংশে ৬১টি মাদকস্পট শনাক্ত করা হয়েছে। সেখানে সহজেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাওয়া যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এলাকা, গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা ভিত্তিকভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ-এর সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ-এর সঞ্চালনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা বক্তব্য দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. হান্নান বলেন, আগে নাসিরনগর তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল, এখন ওই এলাকায় মাদক পাচারের রুট তৈরি হয়েছে। তিনি ইউনিয়নভিত্তিক মাদকবিরোধী সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেন এবং ধরমন্ডল এলাকায় মাদকের ব্যবহার বেশি বলে উল্লেখ করেন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোবারক হোসাইন আকন্দ বলেন, মাদক সম্রাটদের গ্রেপ্তারের পর যাতে তারা সহজে জামিন না পায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন বলেন, সবাই জানে কারা মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানী। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জামিন পেলেও নতুন মামলা দিয়ে আইনের আওতায় রাখতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক প্রসিকিউটর ফখর উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন পরিকল্পনা করছে এবং এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সভায় উপস্থাপিত অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ মাসে জেলায় কোনো চাঁদাবাজি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে একটি এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। একই সময়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৯টি।