
সাইদুল ইসলাম, বালাগঞ্জ (সিলেট) বিশেষ প্রতিনিধি:
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের টলাখালি নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই স্থানীয়দের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত মানুষ — নারী, শিশু, শিক্ষার্থীসহ — জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ওপর বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী সাঁকো পার হয়ে মানুষজন চলাচল করছেন। সামান্য অসাবধানতাতেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এ পথ ব্যবহার করা ছাড়া উপায় নেই। বিশেষ করে শিশু, নারী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়রা জানান, অনেক সময় অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীর হাসপাতাল যাত্রা আগেই বিপর্যয় ঘটে। শুকনো মৌসুমে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করেন, আর বর্ষা মৌসুমে একমাত্র ভরসা নৌকা।
ইলাশপুর গ্রামের সানু মিয়া বলেন, “আমরা আর শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। দ্রুত স্থায়ী সেতু তৈরি করা জরুরি।”
শ্রীনাথপুর গ্রামের দবির হুসাইন বলেন, “আমরা অনেকটা অবহেলিত। সড়ক ও সেতুর অভাবে জীবনযাপন কষ্টকর। অসুস্থ বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই জীবন চলে যায়।”
স্থানীয় ইমাম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলামও মসজিদ ও মক্তবের অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। প্রবীণ মুরব্বি মো. তফুর আলী বলেন, বিশুদ্ধ পানির সংকটও আছে। কাতার প্রবাসী তাজুল ইসলাম বলেন, পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন অনেকটাই অবহেলিত।
বিএনপির সহসভাপতি কামাল আহমদ বলেন, “রাস্তা ও সেতুর উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। এটি নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।”
স্থানীয়রা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত টলাখালি নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেবেন।