
আশ্রাফুল আলম, বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কাজ পাওয়ার আগে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, প্রকল্পের কাজ পাওয়ার আগেই পিআইসির কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে ঠিকাদারদের প্রকল্প না দেওয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই ঘুষ দিয়ে কাজ নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পিআইও খোকন চন্দ্র দাস অফিসের অফিস সহকারী মিলন বড়ালের মাধ্যমে এসব ঘুষের লেনদেন করান। এক ভিডিওতে তাকে অফিসে বসে ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা গুনতে এবং মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা গেছে। ভিডিওতে ১০০ টাকার তিন বান্ডিল ও ১ হাজার টাকার একটি বান্ডিলসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার লেনদেনের দৃশ্য ধারণ রয়েছে।
পিআইওর বিরুদ্ধে কাবিখা প্রকল্পের চাল ও গম সর্বনিম্ন দামে অফিস সহকারীর মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, “এই ঘুষের টাকা পিআইও, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম ও সংশ্লিষ্ট সহকারীরা ভাগাভাগি করে নেন।” এছাড়া, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেও প্রকল্প সভাপতিদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিল উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযোগ রয়েছে, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উপলক্ষে জিআর বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়ার পর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দপ্রাপ্ত ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি ভুয়া বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বরাদ্দে শুকনা খাবার, টিন ও কম্বল কেনার ক্ষেত্রেও পিআইওর বিরুদ্ধে নিম্নমানের পণ্য কেনার অভিযোগ এসেছে।
অভিযুক্ত অফিস সহকারী মিলন বড়াল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই ভিডিওটি আমার নয়, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।” উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।