
মোঃ বিল্লাল হোসেন
ক্রাইম রিপোর্টার
আমার সকাল ২৪
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে গাছ কাটা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙ্গারদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গারদিয়া গ্রামের মো. জালাল মোল্যার সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নান্নু মাতুব্বরের বিরোধ চলে আসছে।
এই বিরোধের জের ধরে গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাঙ্গারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে থাকা ৮টি মেহগনি গাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে কেটে ফেলেন ইউপি সদস্য নান্নু মাতুব্বর। বিষয়টি জানতে পেরে জালালের সমর্থকরা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সালথা থানায় খবর দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কাটা গাছের গুড়ি ফেলে পালিয়ে যান নান্নু মাতুব্বরের শ্রমিকরা। পুলিশ গাছের গুড়িগুলো উদ্ধার করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখে।
রোববার সকালে গাছ কাটার বিষয়টি তদন্ত করতে সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. তাশেম উদ্দিন বিদ্যালয়ে যান। এ সময় তিনি উভয়পক্ষের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বৈঠকে বসেন। বৈঠক চলাকালে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের শুরুতে জালাল মোল্যার সমর্থক মো. বাদশা মোল্যা ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে ইউপি সদস্য নান্নু মাতুব্বরের সমর্থকরা। পরে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন,
“শনিবার বিদ্যালয়ের গাছ কেটে ফেলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছগুলো উদ্ধার করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখে। রোববার সকালে বিষয়টি তদন্তের সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”