
ঢাকা: প্রতারণায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া এবং আরও দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। আদালতের এই আদেশ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোজ।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এ আদেশ দেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনকে আমলে নিয়ে আদালত এই রায় প্রদান করেছে।
আদালতের নির্দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির対象রা হলেন:
গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল
তার মা নাজমা হোসেন
স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া
সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক
মাসুদ রানা
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম বলেন, "বিয়ের প্রলোভনে আনাননিয়া শবনম রোজের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে নোবেল ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।"
তিনি আরও জানান, গত বছরের ১৩ আগস্ট ৪০৬, ৪২০, ৪১৭, ৫০৬ ও ১০৯ ধারার পাশাপাশি পর্নোগ্রাফি অ্যাক্টের ৮(১) ও ৮(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। আদালত পিবিআইকে বাদীর অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। চলতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন দাখিল করলে, বাদী গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।
ভুক্তভোগী রোজ বলেন, "দুই পরিবারের মাধ্যমে আমাদের এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হয়েছিল। নোবেল প্রায়ই ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতো এবং প্রচুর টাকা নেয়। সামাজিকভাবে বিয়ে না হওয়ায় আমাকে তার স্টুডিওতে একদিন আটকে রাখা হয়। সে প্রায়ই আমাকে ভয় দেখাতো।"
গায়ক নোবেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার সহকারী সংবাদমাধ্যমে এই অভিযোগকে ‘গুজব’ বলে দাবি করেছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে নোবেলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৯ মে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে ওই মামলার বাদীকে কারাগারে বিয়ে করার পাঁচ দিন পর নোবেল জামিন পেয়েছিলেন।