
মোঃ আরিফ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওয়ালী উল্লাহসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রকল্পভিত্তিক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে একজন লিখিত অভিযোগ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দাখিল করেছেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
আর্থিক অনিয়ম:
অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন প্রকল্পের তহবিলের অপব্যবহার করা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত কক্ষ থাকা সত্ত্বেও বিলাসবহুল নতুন অধ্যক্ষ কক্ষ নির্মাণে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে অতিরিক্ত বিল, ভুয়া বিল উত্তোলন এবং সরকারি ক্রয়বিধি না মানার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
নিয়োগে স্বজনপ্রীতি:
SICIP প্রকল্পে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে সীমিত প্রচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়েকজনকে যোগ্যতার শর্ত ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানে একযোগে কর্মরত থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সার্টিফিকেট বাণিজ্য:
পিডিও ও Takamol প্রকল্পের সার্টিফিকেট প্রদানে অনিয়ম এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। কিছু বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া ও বদলির তদবির:
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অধ্যক্ষ বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছেন এবং যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালী থেকে বদলির জন্য তিনি লবিং করার চেষ্টা করছেন এবং অর্থ প্রদানের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগকারীরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার, পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরীক্ষা এবং বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।