
আলীকদম (বান্দরবান) বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ নুরুল ইসলাম (রাজু)
মানুষের চিন্তা মূলত এক দ্বিমুখী পথে দাঁড়িয়ে—
একদিকে বিবেক, অন্যদিকে স্বার্থ।
যে পথে মানুষ হাঁটে,
সেই পথই নির্ধারণ করে ব্যক্তি ও সমাজের নৈতিক মান।
বর্তমান ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ক্রমেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে—নিজের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের তাগিদে স্বার্থকে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নীতির জায়গায় বসছে সুবিধা, আদর্শের জায়গায় আসছে হিসাব। ফলে চিন্তা-শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর সত্য হারিয়ে যাচ্ছে কোলাহলের ভিড়ে।
এ বিষয়ে কোরআন সুস্পষ্ট সতর্কতা উচ্চারণ করেছে—
وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَىٰ فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ
“প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না; তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে।”
— সূরা সাদ: ২৬
এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—প্রবৃত্তি যখন পথ দেখায়, তখন ন্যায়বোধ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। স্বার্থের চাপে অনেকেই সময়ের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলে। আজ যে কথা সত্য, কাল তা হয়ে যায় নীরবতা। নৈতিকতা তখন পরিস্থিতিনির্ভর ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে।
কোরআন এই মানসিকতার গভীরে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—
أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَٰهَهُ هَوَاهُ
“তুমি কি তাকে দেখেছ, যে নিজের প্রবৃত্তিকেই নিজের উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে?”
— সূরা জাসিয়া: ২৩
তবে কোরআন কেবল সতর্ক করেই থেমে যায় না; নৈতিক মানদণ্ডও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেয়—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ
شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ
“হে মুমিনগণ! ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো—যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই হয়।”
— সূরা নিসা: ১৩৫
এই আয়াতই বলে দেয়—নৈতিক মান কোনো সুবিধার নাম নয়; এটি সাহসের নাম।
লেখক হিসেবে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট—স্বার্থ মানুষকে সাময়িক লাভ দিতে পারে, কিন্তু নৈতিকতা মানুষ ও সমাজকে দেয় স্থায়িত্ব। আর যে চিন্তা-শক্তি কোরআনের আলোয় গড়ে ওঠে, তা কখনো সময়ের সঙ্গে বিক্রি হয় না।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—
فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلَّا الضَّلَالُ
“সত্যের পরে বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে?”
— সূরা ইউনুস: ৩২
এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হবে আমাদের ব্যক্তি-জীবন, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকনির্দেশনা।