নীলফামারীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর
মোঃ রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি:
উত্তরাঞ্চলের মানুষের আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নীলফামারীতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) সকালে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় এক হাজার শয্যার এই আধুনিক হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারীসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো নিয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া এই হাসপাতালটি দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকার সার্বিক অগ্রগতি, ভূমি উন্নয়ন কাজ, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. গোলাম সবুর পিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, “এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু নীলফামারী নয়, রংপুর বিভাগের সমগ্র জনগণ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে আর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী হতে হবে না। স্থানীয় পর্যায়েই তারা আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবে।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন এই বৃহৎ হাসপাতাল প্রকল্পটি দেশের স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।