
মোঃ রাব্বি রহমান
নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে একটি চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. মামুন শেখ ওরফে জঙ্গি মামুন (২৫) গ্রেপ্তার হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৫ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নীলফামারী সদর থানাধীন পৌরসভার বড় মাঠের পূর্ব পাশে তাপস রায় (২২) তার স্ত্রী আশা রায় (১৯)-এর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অবৈধভাবে আটক করে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাপস রায়কে গালিগালাজ ও মারধর করে এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাধা দিতে এলে অভিযুক্তরা তাকে অশালীন আচরণের মাধ্যমে হয়রানি করে এবং ধাক্কাধাক্কি করে। পরে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ভিডিওটি ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। দিনের আলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুশীল সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নীলফামারীর পুলিশ সুপার জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানা পুলিশকে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মো. মতলুবর রহমানের তত্ত্বাবধানে এবং এসআই (নিঃ) রাসেল শেখের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টায় নীলফামারী সদর থানাধীন চড়াইখোলা বটতলী বাজারের পশ্চিম পাশে কবরস্থান এলাকা থেকে ঘটনার মূল হোতা মো. মামুন শেখ ওরফে জঙ্গি মামুন ওরফে ভাইরাল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ইটাখোলা মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও তার সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বড় মাঠ এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের টার্গেট করে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।
এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় মামলা নম্বর-৪২, তারিখ-৩০/০১/২০২৬ খ্রি., জিআর নং-৪২/২০২৬ রুজু করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৫০৬/৩৪ ধারা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩)-এর ১০ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৫(১) ধারা সংযোজন করা হয়েছে।