
বার্তা সম্পাদক , আনহাজ হোসেন হিমেল
২১ জানুয়ারির পর মাঠে নামবেন নির্বাচনী প্রচারে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোকে নিমজ্জিত হন। তবে দেশ ও জাতির স্বার্থে সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছেন তিনি।
বর্তমানে তিনি নিয়মিত রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অফিস করছেন। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জোট শরিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করছেন তারেক রহমান।
এসব বৈঠকে রাজনীতির পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র পরিচালনা, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণের উপায়সহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে আলোচনা করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সময় পেলে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করছেন তিনি।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামী ১১ জানুয়ারি পৈতৃক জেলা বগুড়া সফরে যাবেন তারেক রহমান। দুদিনের এই সফরে বগুড়া জেলা বিএনপির আয়োজনে সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় গণদোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি। একই সফরে রংপুরে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকেও বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন না পেয়ে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির ‘অভিমানী নেতারা’ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এতে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীদের বিজয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনতে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন তারেক রহমান।
আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিভাগীয় জনসভা ছাড়াও ঢাকার একাধিক আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারে অংশ নেবেন তিনি। প্রয়াত মায়ের মতো সিলেটে দুই সুফি সাধকের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সোমবার গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন,
“একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদী—সবাইকে নিয়েই একটি উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে চাই।”
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিপিবি, বাসদ, জাসদ ও বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, জমিয়ত, এবি পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও পৃথকভাবে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাঠানো শোকবার্তা তারেক রহমানের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা শোনেন তিনি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তারেক রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং বিএনপির সম্ভাব্য ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে সমর্থন দিতে আগ্রহী।