
মোঃ বিল্লাল হোসেন
ক্রাইম রিপোর্টার
আমার সকাল ২৪
বরিশাল সদর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি নূরানি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। তবে মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য পাশের মসজিদে অবস্থান করায় মাদ্রাসার শিক্ষকসহ ৩৫ জন শিক্ষার্থী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের মধ্যেও পবিত্র কোরআন শরিফ অক্ষত থাকায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের মহাবাজ এলাকার মাদিনাতুল উলুম নূরানি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত। অগ্নিকাণ্ডের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই পাশের একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায়ে ব্যস্ত ছিলেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম জানান,
“নামাজের শেষের দিকে আগুন লাগার খবর পাই। দ্রুত এসে দেখি পুরো মাদ্রাসা দাউ দাউ করে জ্বলছে। তখন কিছুই আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে ভেতরে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনে কোরআন শরিফের মলাট পুড়লেও এর হরফ ও আয়াত অক্ষত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন বলেন,
“প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্টসার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।”