
মোঃ আব্দুস ছালাম
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের উত্তর জনপদের ধানের রাজ্য হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে গত বছরের তুলনায় এবার ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ অনেক বেশি দেখা গেছে। ভুট্টা চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও ফলন ও বাজারমূল্য বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। ভালো ফলনের আশায় কৃষকেরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলার শাহাগোলা, ভোঁপাড়া, কালিকাপুর, মনিয়ারী ও আহসানগঞ্জ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে।
উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আগে যেসব জমিতে বোরো ধান চাষ করা হতো, সেসব জমির অনেকগুলোতেই এবার আমরা ভুট্টা চাষ করেছি। বোরো ধানে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। আবার ধান কাটার সময় বাজারে ধানের দাম কমে যায়, ফলে অনেক সময় উৎপাদন খরচও ওঠে না। কিন্তু ভুট্টার উৎপাদন খরচ কম এবং বাজারদরও ভালো থাকে। তাই আমরা এবার ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী হয়েছি।”
চৌবাড়ি গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে আলু চাষের জন্য বিখ্যাত। তবে মৌসুমের শেষদিকে আলুর দাম বাড়লেও এর মুনাফা কৃষকেরা পান না, মজুদদাররাই লাভবান হয়। তাই এবার আমরা ভুট্টা চাষ করছি। আশা করছি ফলন ভালো হবে। তবে ন্যায্য দাম পেলে কৃষকদের কষ্ট সার্থক হবে।”
শাহাগোলা ইউনিয়নের তারাটিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, “গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের এলাকায় ভুট্টার আবাদ অনেক বেশি হয়েছে। আশা করছি, এবার বাম্পার ফলন হবে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা নিয়মিত কৃষকদের মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।”
ভবানীপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “কৃষকেরা যাতে স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য আমরা নিয়মিত মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “সব ধরনের ফসল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করছি। কৃষকেরা যাতে সহজে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পেতে পারেন, সে জন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছে এবং বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।”