ধানের ব্যবসার নামে প্রতারণা, চুকনগরের রেজাউল ও সবুর আটক
বিশেষ প্রতিনিধি: জাকারিয়া
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার যোগরাজপুর গ্রামে ধানের ব্যবসার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরের বাসিন্দা রেজাউল ও তার সহযোগী সবুরকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার যোগরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী (মৃত তাবারক গাজীর পুত্র)-এর বাড়িতে ধান কেনার কথা বলে যায় অভিযুক্তরা। তারা প্রথমে ৫০ বস্তা (৭৫ মণ) ধান কেনার কথা বললেও বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে কৌশলে ৮০ বস্তা (প্রায় ১২০ মণ) ধান ট্রাকে তুলে নেয়।
এ সময় ইউসুফ আলীর স্ত্রী বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধা দিলে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই ট্রাকসহ দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে খুলনার চুকনগর এলাকা থেকে প্রধান আসামি রেজাউলকে আটক করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে ৬৩ বস্তা ধানের সমমূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হয় বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো কৃষক এমন ঘটনার শিকার না হন।
কৃষকদের জন্য সতর্কতা:
স্থানীয়দের মতে, অপরিচিত বা নতুন কোনো ব্যবসায়ীর কাছে ধান বা কৃষিপণ্য বিক্রির সময় তাদের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা যাচাই করা উচিত। এছাড়া লেনদেনের সময় স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং টাকা হাতে পাওয়ার আগে পণ্য ট্রাকে তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
