
শাহিনুর রহমান, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত নাসিমা (৪০)-এর মরদেহ পার্বতীপুরে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোররাতে তার লাশবাহী গাড়ি বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যআটরাই গ্রামে সকাল ১০টার দিকে তার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগ্নি নাজমিরা (৩০) ও ৬ বছরের ভাগ্নে আব্দুর রহমান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নাসিমা ছিলেন সবার ছোট। প্রায় এক যুগ আগে পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নুর ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন।
সম্প্রতি রমজানে চাকরির সন্ধানে তিনি রাজবাড়ীর কালুখালীতে তার ভাগ্নির বাড়িতে যান। ঈদ উদযাপন শেষে ভাগ্নি নাজমিরা, তার ছেলে আব্দুর রহমান এবং ভাগ্নি জামাই আব্দুল আজিজের সঙ্গে ঢাকায় ফেরার পথে তারা ‘সৌহাদ্য পরিবহন’-এর একটি বাসে যাত্রা করেন।
ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল নাসিমার। কিন্তু পথিমধ্যে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। এতে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগ্নি ও শিশু ভাগ্নে প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে নামাজ আদায়ের জন্য বাস থেকে নেমে যাওয়ায় ভাগ্নি জামাই আব্দুল আজিজ প্রাণে বেঁচে যান। পরে ফিরে এসে তিনি দেখেন, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আরও ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেন নিহতদের পরিবারের কাছে এ সহায়তা পৌঁছে দেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা জানান।