প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৩০, ২০২৬, ৪:২৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৩০, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
দেশের শিশুদের জন্য হামের বিপর্যয়: টিকাদানে বড় ধস, সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে

দেশের শিশুদের জন্য হামের বিপর্যয়: টিকাদানে বড় ধস, সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ আবার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে হামের টিকাদান কভারেজে বড় ধরনের পতন ঘটেছে, যার প্রভাব ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় দেখা দিয়েছে।
টিকাদানের চিত্র: ক্রমাগত পতন
২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এমআর-১ (মিজেলস-রুবেলা) এবং এমআর-২ টিকার কভারেজ ৮০ শতাংশের ওপরে থাকলেও ২০২৫ সালে তা ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসে।
- ২০২৫:
- এমআর-১: ৫৬.৫%
- এমআর-২: ৫৭.১%
- এর আগের বছরগুলোতে কভারেজ ছিল প্রায় ৮৫–৯৭%
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, “গত আট বছর শিশুদের মধ্যে টিকা না দেওয়ার কারণে হামের প্রকোপ আবার বাড়ছে।”
পতনের কারণ
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন কয়েকটি প্রধান কারণ—
- অ্যাক্টিভ ক্যাম্পেইন বন্ধ – আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হতো, কিন্তু এখন শুধুমাত্র টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
- অপারেশনাল প্ল্যান বাতিল – মাঠপর্যায়ের তদারকি ও সার্ভিল্যান্স বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিশু টিকার বাইরে পড়ে গেছে।
- বাড়িতে জন্ম নেওয়া শিশুদের বাদ পড়া – দেশে এখনো বিপুলসংখ্যক শিশু বাড়িতে জন্ম নিচ্ছে এবং তারা টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংক্রমণ পরিস্থিতি
- দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে
- কিছু এলাকায় সংক্রমণ বেশি হলেও সার্বিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে
- বড় ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে
- প্রয়োজন অনুযায়ী আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি করা হচ্ছে
নতুন উদ্যোগ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগামী জুলাই–আগস্টে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্যাভি (Gavi) অবহিত
- মে থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি সিরিঞ্জ সরবরাহ হবে
- প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই কর্মসূচি শুরু হবে
মন্ত্রী বলেন, “সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও ডিএনসিসি হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
পাঠকের জন্য বার্তা
- শিশুদের ৯ ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি
- টিকা মিস হলে নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন
- জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান
© All rights reserved 2026 আমার সকাল ২৪ (পত্রিকা)