
মোঃ নাজমুল হক নয়ন, স্টাফ রিপোর্টার | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাহরামানমারাস শহরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর গুলিতে আট শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্কুল চলাকালে ওই শিক্ষার্থী পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে অতর্কিতে দুটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে সহপাঠী ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর কিশোরটি নিজের অস্ত্র ব্যবহার করে আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, নিহতদের মধ্যে আটজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক রয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো হামলাকারীর বাবার। তিনি একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। পরিবারের অস্ত্র কীভাবে এক কিশোরের হাতে পৌঁছালো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হামলাকারীর বাবাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এটি একটি অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা শোকাহত পরিবারের পাশে আছি এবং ঘটনার নেপথ্যে কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তুরস্কে স্কুলে এ ধরনের সহিংসতা বিরল হলেও, গত ৪৮ ঘণ্টায় এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সানলিউরফা প্রদেশে এক সাবেক শিক্ষার্থী স্কুলে ঢুকে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ১৬ জন আহত হন এবং হামলাকারী পরে আত্মহত্যা করে।
পরপর দুই দিনে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিভাবকরা বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাহরামানমারাস শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
নিহতদের স্মরণে বৃহস্পতিবার তুরস্কের বিভিন্ন সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।