
ধর্ম ডেস্ক,আমার সকাল ২৪
ইবাদতের বসন্তকাল পবিত্র রমজান। এ মাসে আল্লাহ তাআলা রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজান মাস শুরু হলে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। (মুসলিম: ১০৭৯/২)
অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রমজান মাসের আগমনে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (বুখারি: ১৮৯৯; মুসলিম: ১০৭৯/১)
রমজানে প্রতিটি আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “রমজানের ওমরা হজের সমতুল্য।” (তিরমিজি: ৯৩৯; আবু দাউদ: ১৯৮৬)
বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা এ মাসে যেসব গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত করেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো তারাবি নামাজ। রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবি আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (নাসায়ি: ২২০৫)
এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর এবং বিতিরের আগে তারাবি নামাজ পড়া হয়।
সাধারণত দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করা হয় এবং প্রতি দুই রাকাত শেষে সালাম ফিরানো হয়।
চার রাকাত পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত, এ সময় তাসবিহ, দোয়া বা জিকির পড়া উত্তম।
নিয়ত মুখে বলা আবশ্যক নয়; মনে মনে করলেই যথেষ্ট। বাংলায় এভাবে নিয়ত করা যায়:
“আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির দুই রাকাত সুন্নত নামাজ কেবলামুখী হয়ে আদায় করছি।”
প্রচলিত আরবি নিয়ত:
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَى صَلَاةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللّٰهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللّٰهُ اَكْبَرُ
চার রাকাত পর বিশ্রামের সময় অনেক স্থানে নিম্নোক্ত দোয়া পড়ার প্রচলন রয়েছে:
سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ ... رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوْحِ
তবে মনে রাখতে হবে, এই দোয়া পড়া তারাবি নামাজের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এ সময় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়া, তওবা বা ইস্তিগফার পড়া উত্তম।
দেশের অনেক মসজিদে তারাবি শেষে নিম্নোক্ত দোয়া পড়া হয়:
اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ ...
এ দোয়াটিও বাধ্যতামূলক নয়; যেকোনো দোয়া করা যাবে। তারাবি নামাজের বিশুদ্ধতা এ দোয়ার উপর নির্ভর করে না।