
মোঃ মারুফ হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের কর্মী-সমর্থকরা আগে থেকেই নির্ধারিত চেয়ারে বসে ছিলেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের কর্মীরা তার আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন। একপর্যায়ে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। সাংবাদিক দুইজনও আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করেন, বিএনপি পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে, বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, উগ্রবাদী জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব সাহা জানিয়েছেন, ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং আরও ১০–১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”