
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন, ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি
ঝিকরগাছার ‘স্বর্ণালী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়’ নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আর্তমানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষার্থী ২০১৯ সালের আন্তর্জাতিক স্পেশাল অলিম্পিকে সাঁতার ও ফুটবলে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ও আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় তারা বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেন।
বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে একটি দোচালা ঘরে পাঠদান শুরু হলেও এখন প্রায় সাড়ে ৪শ শিক্ষার্থী ভর্তি। ৫৭ শতক দানকৃত জমিতে বিদ্যালয়ে রয়েছে নয়টি শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি, অফিস কক্ষ এবং নিরাপত্তা প্রাচীরসহ প্রধান ফটক। শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা: রেহেনা খাতুন জানান, শিক্ষার্থীদের বাক-শ্রবণ, দৃষ্টি ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতা অনুযায়ী প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান ও নিয়মিত অনুশীলন চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আলিম বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হয়েছে। তবে সরকারি আর্থিক সহযোগিতা এখনও পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: তোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের দাবি জানাচ্ছে। বিদ্যালয় শুধুমাত্র ঝিকরগাছার নয়, পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও শিক্ষার মানসম্পন্ন সুযোগ সৃষ্টি করছে।