
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের দোসতিনা গ্রামে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঝিকরগাছা উপজেলা সভাপতি ইসা মাহমুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর একদল যুবদল কর্মী অতর্কিতভাবে ইসা মাহমুদের ওপর হামলা চালায়। পরে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ইসা মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় যুবদলের কামাল, আশানুর ও হারুন তার গলা চেপে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগের দিনও তাকে নির্বাচনী মাঠে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের পর কোনো ধরনের ঝামেলা হলে দায় নেবে না বলেও সতর্ক করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা হামলা-মামলার পথে যেতে চাই না। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিরোধ মেটাতে বসে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা নেতাদের সিদ্ধান্ত মানছেন না বলে দাবি করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, “আমরা শান্তি চাই। নির্বাচনে একদল দায়িত্ব পায়, আরেকদল পায় না—তবে সবারই ভোটার রয়েছে। সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিএনপির উপজেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আগেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছিলেন যে আর সমস্যা হবে না। তবুও কেন এমন ঘটনা ঘটছে, তা তাদেরই খতিয়ে দেখা উচিত।”
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন শিমুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার নুরুজ্জামান, সেক্রেটারি আইয়ুব হোসেনসহ স্থানীয় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।